• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Bongosoft Ltd.

মাদক ও জুয়ারীদের আতঙ্ক: পাটগ্রাম থানার ওসি নাজমুল হক


FavIcon
মোঃ মাহাবুব ইসলাম
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 3, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ad728

তরুণ প্রজন্মের অগ্রগতির অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদক। মাদকের ভয়াল থাবায় দেশের যুবসমাজ ক্রমেই অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ছে—যা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিশু থেকে শুরু করে কিশোর, যুবক, নারী-পুরুষ—সবাই কোনো না কোনোভাবে এই মরণনেশার শিকার হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মাদক, জুয়া ও অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছেন।
বদলে যাচ্ছে পাটগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
ওসি নাজমুল হকের যোগদানের পর পাটগ্রাম উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কমেছে সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, জুয়া, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও কিশোর অপরাধের মতো নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
শুধু অপরাধ দমনই নয়, থানার সেবার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান
মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পাটগ্রাম থানা পুলিশ। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসব অভিযানের কারণে অনেক চিহ্নিত মাদক কারবারি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে, আবার অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে। যদিও কিছু কারবারি নতুন কৌশলে মাদক ব্যবসা চালানোর চেষ্টা করছে, তবুও পুলিশের কঠোর নজরদারিতে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
পাটগ্রাম পৌরসভার বাসিন্দারা জানান, একসময় দিনের আলোয় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হতো, বিশেষ করে ইয়াবার বিস্তার ছিল বেশি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই দৃশ্য অনেকটাই কমে এসেছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, “আমরা এমন পুলিশ প্রশাসনই চাই, যারা সত্যিকারের অপরাধ দমনে কাজ করবে।”
চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক সমস্যাটি পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে আরও কঠোর নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা বন্ধ করা না গেলে এই সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
ওসি নাজমুল হকের বক্তব্য
ওসি নাজমুল হক বলেন,
“মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। কোনো অবস্থাতেই মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না। যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমি নিজেও অভিযানে অংশ নিচ্ছি।”
তিনি আরও জানান,
“প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় অনেক সময় মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়। আমরা সেই নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছি। নারীসহ অনেকেই এই অপরাধে জড়িত—তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
দৃঢ় অবস্থান
ওসি নাজমুল হক দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
“যতদিন আমি এখানে দায়িত্বে থাকবো, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কোনো আপোষ করা হবে না। পাটগ্রামকে মাদকমুক্ত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।