নিজস্ব প্রতিবেদক, লালমনিরহাট: লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার কাফিরবাজার এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও অবিরাম ট্রলি চলাচলের কারণে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে স্থানীয় জনজীবন। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট প্রতিদিন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে শত শত ট্রলি দিয়ে পরিবহন করছে। ফলে এলাকার পরিবেশ, গ্রামীণ অবকাঠামো এবং শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ধুলোয় মিশছে শিশুদের ভবিষ্যৎ সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৪০০টি ট্রলি সরকারি রাস্তা ব্যবহার করে বালু পরিবহন করছে। বেপরোয়া এসব যানবাহনের দাপটে পথচারী, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সবসময় আতঙ্কে দিন পার করছেন। বালু পরিবহনের সময় সৃষ্ট ধুলোবালিতে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
এলাকার ১ নং জংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১১৯ নং বাঁশকাটা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ঘোষপাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির এলাকা ধুলোয় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ধ্বংস হচ্ছে রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি ভারী ট্রলি চলাচলের কারণে গ্রামীণ পাকা রাস্তাগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর বাঁধ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এতে বর্ষাকালে বাঁধ ভেঙে আশপাশের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত রাস্তার পাশে থাকা দোকানপাট ও হোস্টেলগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। ধুলোর আস্তরণে নষ্ট হচ্ছে দোকানের মালামাল। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ধুলোবালির ভয়ে ক্রেতারা বাজারে আসতে চান না। এতে তারা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন।
সিন্ডিকেটের হুমকি ও প্রশাসনের ভূমিকা স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের সরকারি নির্দেশ থাকলেও তা মানছে না প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। সাধারণ মানুষ এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহ বা ছবি তুলতে গেলে তাদেরও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এই অবৈধ বালু ব্যবসার নেপথ্যে কারা? বালু বিক্রির বিপুল টাকা কোথায় যাচ্ছে? এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ কর্মযজ্ঞ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা চান, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে স্বস্তি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
আপনার মতামত লিখুন :